শুকনো মুড়ি খেয়ে অলিম্পিকে যাত্রা, বাস চালকের মেয়েই এখন ভারতকে সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে

কথায় রয়েছে পরিশ্রমের ফল সবসময় মিষ্টি হয় এবং তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমান করে দিলেন বাংলার মেয়ে প্রণতি নায়েক। প্রণতির‌ বাবা পেশায় একজন বেসরকারি বাস চালক। নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারে তিন মেয়ের ভবি’ষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের রেখে যান পিংলায় তাদের মাসির বাড়িতে। ভারতের দীপা কর্মকার এর পর অলিম্পিকে দ্বিতীয় জিমন্যাস্ট হিসেবে নাম রয়েছে প্রণতির।

একসময় মুড়ি খেয়ে প্র্যাকটিস করতেন প্রণতি। আর্থিক অনটনের মাঝেও বড়ো কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন নায়েক পরিবারের এই মেজো মেয়ে। দীপা কর্মকারের পর এবার সকলের নজর রয়েছে প্রণতি নায়েকের ওপর। প্রণতির কথায়,’অলিম্পিক কি বুঝতাম না।

আমার কোচ মিনারা বেগম বলেছিলেন যে, কেউ যদি জিজ্ঞেস করে তো স্বপ্ন কি, বলবি অলিম্পিক্সে খেলা। সেরকম বলতে বলতে না জানি কখন সত্যিই সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেছি। পরে সিনিয়র পর্যায়ে খেলার সময় বুঝতে পারলাম কতটা কঠিন অলিম্পিক্সের যোগ্যতা পাওয়া।’

পিংলা মাঠ থেকে শুরু হয় প্রণতির অলিম্পিক্সের যাত্রা। সেখান থেকে জে’লা স্তরে যোগ্যতা অর্জন করার পর খেলার সুযোগ পান রাজ্যস্তরে। রাজ্য স্তরের খেলার জন্য তিনি এসে পৌঁছান কলকাতায়। কিন্তু কলকাতায় কোনো হোস্টেল না পাওয়ার দরুন তাকে থাকতে ‘হতো বাড়ি ভাড়া করে। কিন্তু বাড়ি ভাড়া এবং তার খরচা চালানোর মতো সামর্থ্য তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

তাই স্টেডিয়াম লাগোয়া একটি বাড়িতে তিনমাস মেয়েকে রাখার জন্য অনুরোধ করেন প্রণতির বাবা। সেই বাড়িতে ঘরমোছার কাজের পাশাপাশি বিভিন্নরকম বাড়ির কাজ করতে ‘হতো প্রণতিকে। পাশাপাশি নিজের প্র্যাকটিস ও করতেন তিনি।

এরপর সেকথা তার কোচ অর্থাৎ মিনারা বেগমের কানে যেতেই তার বাড়িতেই থাকার জন্য আশ্রয় দেন প্রণতিকে। সেখানেই বছর খানেক থাকেন প্রণতি। এরপর জাতীয় স্তরে সোনা অর্জন করেন তিনি।

এরপর হোস্টেল পান। প্রণতি জানান, সকালে ৩ ঘন্টা এবং বিকেলে ৩ ঘন্টা করে প্র্যাকটিস করতে ‘হতো তাকে। যখন সবাই ডিম,কলা ও পুষ্টিকর খাবার খেতেন তখন তিনি কেবলমাত্র মুড়ি খেয়ে নিজের পেট ভরাতেন। এই ছোটখাটো ঘটনাগু’লি তার জেদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। নিজেকে প্রমাণ করার জেদ তৈরি করেছিল সে।

প্রণতি ঈশ্বরে ভীষণ বিশ্বা’সী। তাই সবসময় নিজের ব্যাগে নিজের আরাধ্য দেবতা বাবা লোকনাথের ছবি রাখেন সব সময়। একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে কিভাবে প্রতিকূলতাকে জয় করে জীবনে এগিয়ে যাওয়া যায় তার বাস্তব উদাহরণ হল প্রণতি নায়েক। তার জীবনের লড়াই বহু নারীর অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনের কঠিন মুহূর্তের মধ্যে যেভাবে লড়াই করে গিয়েছে সেটা প্রশংসা পাবার যোগ্য।

Sharing is caring!

About admin

Check Also

নদীর তাজা ও আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে

খন চলছে বর্ষা মৌসুম। এ সময়ে সমুদ্র থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদীতে আসে ডিম দিতে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *